
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতার রুকনিয়াত বা প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর রুকন ছিলেন এবং একইসঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত শনিবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ওই বৈঠকের সুপারিশের ভিত্তিতে দলটির আমিরে জামায়াত মোশাররফ হোসেনের রুকনিয়াত বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আর কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য, কর্মকাণ্ড বা কার্যভারের দায়দায়িত্ব কোনোভাবেই সংগঠন বহন করবে না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজস্ব আদর্শ, গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সবসময় কঠোর ও বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও দলের নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের গণমাধ্যমকে জানান, মোশাররফ হোসেন সংগঠনের নির্ধারিত রীতিনীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।