
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে প্রবল বর্ষণজনিত আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৩ জন।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই গানসু প্রদেশের ডিংসি শহরের ওয়েইইউয়ান কাউন্টিতে মুষলধারে বৃষ্টির ফলে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে পৌঁছায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে চীনের জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন ও ত্রাণ কমিশন গানসুর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে ডিংসি শহরসহ গানসুর পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে নতুন করে আরও ভূমিধস হতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গানসুর পাশাপাশি চীনের রাজধানী বেইজিং এবং ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলেও নতুন করে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সিচুয়ান প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েও অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বানের পানি থেকে সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে প্রদেশটির প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সিচুয়ান থেকেই ৮ লাখ ৮১ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা সুপার টাইফুন ‘ডলফিন’ আগামী বুধবার নাগাদ চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক বার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।