
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে এবং এর ফলেই বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বা ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে গেছে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আন্তরিক বৈঠক শেষে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, এফডিএ কার্যক্রম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের সয়াবিন, তুলা ও গম সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণসহ কৃষি ও আইটি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। জবাবে মার্কিন বিশেষ দূত জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিরাপদ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগ চালু করেছিল।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সার্জিও গর জানান, তিনি আগের দিন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি এই সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।