
মানুষের সমাজে অন্যায়, জুলুম ও অবিচার নতুন কোনো বিষয় নয়। ইসলাম একজন মুমিনকে অন্যায়ের সামনে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে শিক্ষা দেয় না, বরং অন্যায়ের প্রতিবাদকে ইমানের অপরিহার্য দাবি হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে সেই প্রতিবাদ যেন আবেগনির্ভর, প্রতিহিংসাপরায়ণ কিংবা বিশৃঙ্খল না হয় সেদিকেও ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান যুগে প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও, রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন এক সুমহান আদর্শ।
ইসলামে জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে ইমানের দায়িত্ব বলা হয়েছে। সুরা আন-নিসার ১৪৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, তার কথা বলার অধিকার রয়েছে। তবে তা হতে হবে ন্যায়সংগত। হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, কেউ অন্যায় দেখলে তা হাত দিয়ে (ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ), মুখে অথবা অন্তরে ঘৃণা করার মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে। পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নীরব থাকাকে ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে প্রতিবাদের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু কঠোর সীমারেখা ও শিষ্টাচার নির্ধারণ করে দিয়েছে। অন্যায় প্রতিহত করতে গিয়ে নতুন কোনো অন্যায় সৃষ্টি করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা কিংবা জনদুর্ভোগ তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সবসময় নম্রতা ও প্রজ্ঞার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যে কাজে নম্রতা থাকে তা সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। বাস্তব জীবনে তিনি প্রতিবেশীর অন্যায়ের প্রতিবাদে সংঘর্ষের পথ না বেছে সামাজিক সচেতনতা ও প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা অত্যাচারীকে নিজের ভুল বুঝতে বাধ্য করেছিল।
ডিজিটাল যুগে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নামে তথ্য যাচাই না করে সংবাদ ছড়ানো কিংবা চরিত্রহনন করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলামের মূলনীতি হলো প্রতিবাদের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, বরং অন্যায় দূর করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাই অনলাইন বা অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই একজন মুসলমানের প্রতিবাদ হবে তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল, শালীন এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত প্রজ্ঞার আলোকে।