
খাবারের থালায় সাধারণ মানুষের অজান্তেই প্রবেশ করছে অদৃশ্য বিপদ মাইক্রোপ্লাস্টিক। দেশের গবেষকদের দুটি পৃথক গবেষণায় রান্নার সয়াবিন তেল এবং চিনিতে এই অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত ৬০টি সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, ব্র্যান্ডেড বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেলে দূষণের মাত্রা অনেক বেশি, যা মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সয়াবিন তেলের পাশাপাশি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৯৫ শতাংশ চিনির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান মিলেছে। প্লাস্টিকের পাত্রের পুনর্ব্যবহার, খোলা অবস্থায় খাদ্য সংরক্ষণ, প্যাকেজিং এবং পরিশোধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমেই মূলত এসব ক্ষতিকর কণা খাদ্যে মিশছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পিইটি পলিমারযুক্ত এসব অতিক্ষুদ্র কণা মানবদেহে প্রবেশ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হজমের সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতার মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে খাদ্যমান তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি দূষিত এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।