
দিল্লির যন্তর মন্তরসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত তীর্যক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেত্রী ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। সাম্প্রতিক এক ভিডিও বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের ‘আবর্জনার প্রজন্ম, কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জেন–জেড বা জেন–জি শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য নতুন করে উত্তাপ ছড়ালেও, আন্দোলন পরিচালনাকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বিষয়টিকে পাত্তাই দিতে নারাজ। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘ওকে আবার সিরিয়াসলি নেয় কে?’
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে করা আগের মন্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন কঙ্গনা। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অভিনেত্রীর মতে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের আচরণ অত্যন্ত অশালীন ও অনৈতিক ছিল। প্রকাশ্য রাজপথে নারী, শিশু ও প্রবীণদের সামনে অশ্লীল ভাষা বা অশোভন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানান, পুরো জেন জেড প্রজন্মকে আক্রমণ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের মতো মহাকাশ প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং কঠোর পরিশ্রমী তরুণদের সাফল্যে তিনি সবসময় গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ওঠা স্লোগানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনজীবনে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শালীনতা লঙ্ঘন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ নয়।
এদিকে কঙ্গনার এই মন্তব্যের পাশাপাশি এই পুরো বিতর্ক নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার বিশাল দাদলানির গলায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গনার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষার সমালোচনা করার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহারের মতো কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়ে কেন একইভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে কঙ্গনার মন্তব্য এবং এর পরবর্তী পালটা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।