
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী ওপেনার মনজ্যোৎ কালরার আইনি জটিলতা ও সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) শুরুর প্রাক্কালে ম্যাচ গড়াপেটা বা ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগে শ্রীলঙ্কার কারাগারে বন্দি থাকা এই ক্রিকেটারের জামিনের আবেদন শেষ পর্যন্ত আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মনজ্যোৎ কালরা এবং তার সহকারী যুবরাজ পুষ্পের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তাদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে দুজনেরই শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হোক। তবে এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পুলিশের যুক্তিকেই বহাল রেখে প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট দুজনকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি জাফনা কিংসের অন্যতম মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কালরা। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, নিজের দলেরই এক ক্রিকেটারকে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রস্তাব বা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের তিন তারকা ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষ, আবিষ্কা ফের্নান্দো এবং দুনিথ ওয়েল্লালাগে সরাসরি কালরার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন। এছাড়া আরও দুজন ঘরোয়া স্তরের ক্রিকেটারও তার বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে মুখ খুলেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে এবং পৃথ্বী শ'র নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ভারত। সেই দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য ওপেনার ছিলেন মনজ্যোৎ কালরা, ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করেছিলেন বর্তমান প্রজন্মের তারকা শুবমান গিল।
তবে যুব বিশ্বকাপের সেই সাফল্যের পর ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতে পারেননি কালরা। পেশাদার ক্রিকেটে আশানুরূপ ভবিষ্যৎ গড়তে না পেরে তিনি পরবর্তীতে 'স্পোর্টস কমিউন' নামের একটি ম্যানেজমেন্ট ও স্পোর্টস এজেন্সি গড়ে তোলেন। এই সংস্থার মাধ্যমেই তিনি জাফনা কিংসের মালিকানা স্বত্বে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানের এই ম্যাচ গড়াপেটার কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর পর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ তার সংস্থার সঙ্গে সমস্ত চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করেছে।