
বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে সরকার। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার ও তাঁদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যেই এই কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘বীর উত্তম’ খেতাবধারীরা এখন থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাবেন। পাশাপাশি তাঁরা ১০ হাজার টাকা উৎসব ভাতা, ৫ হাজার টাকা মহান বিজয় দিবস ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। অন্যদিকে, ‘বীর বিক্রম’ ও ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং তাঁদের জন্যও সমপরিমাণ অন্যান্য উৎসব ও বিশেষ ভাতা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারগুলোকে মাসিক ২৩ হাজার টাকা মূল সম্মানী ভাতার পাশাপাশি ২ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা, ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা দেওয়া হবে।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অক্ষমতার মাত্রা অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে নতুন সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ থেকে ১০০ শতাংশ অক্ষমতাসম্পন্ন ‘ক’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ৩০ হাজার টাকা, ৬১ থেকে ৯৫ শতাংশ অক্ষমতাসম্পন্ন ‘খ’ শ্রেণির যোদ্ধারা ২৮ হাজার টাকা, ২০ থেকে ৬০ শতাংশ অক্ষমতাসম্পন্ন ‘গ’ শ্রেণির যোদ্ধারা ২৩ হাজার টাকা এবং ১ থেকে ১৯ শতাংশ অক্ষমতাসম্পন্ন ‘ঘ’ শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, সরকারের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ বীর সন্তানদের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক হবে।