
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর শেষ মুহূর্তের অনভিপ্রেত ও বিতর্কিত ঘটনার জেরে কঠোর তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ফাইনাল ম্যাচের শেষভাগে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এবং মারামারির মতো লজ্জাজনক দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি একজন নৈতিকতা প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, যিনি নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও থিয়াগো আলমাদাসহ কোচিং স্টাফদের আচরণ খতিয়ে দেখছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে বর্ণবাদী স্লোগান, ফকল্যান্ডস দ্বীপ সংক্রান্ত ব্যানার এবং ফেভারিটিজম বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পর ফাইনালের এই রূঢ় আচরণ আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
মাঠের ভেতরের এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ভার্চুয়াল জগতেও। ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনাকে ফিফার সমস্ত প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছিলেন, যা এখন বন্ধ রয়েছে। এই পিটিশনে অবিশ্বাস্যভাবে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি (২৩,৩১৬,১০৮) মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষরিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এই পিটিশনটি। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষরিত পিটিশনের রেকর্ডটি ১৯৯৭ সালের 'জুবিলি ২০০০' আন্দোলনের দখলে রয়েছে, যার স্বাক্ষর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ। মাঠে ও মাঠের বাইরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আর্জেন্টিনা দল যেভাবে খবরের শিরোনাম হয়েছে, তাতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণে থাকবে।