
বীমা খাতের শেয়ারে অব্যাহত দরপতন ও বিক্রির চাপের মাঝেও বড় মূলধনী ও মৌলিকভাবে শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতাদের সমর্থন পাওয়ায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়ে ৫ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে স্থবির রয়েছে। তবে সম্ভাব্য নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় ব্লু-চিফ সূচক ডিএসআই-৩০ কিছুটা কমে ২ হাজার ২০৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ইবিএল সিকিউরিটিজ ও শেলটেক ব্রোকারেজের বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্জিন ঋণের নিয়ম পরিবর্তনের গুঞ্জনে বাজারে দিনভর সূচকের ওঠানামা দেখা গেছে।
সেশনের শুরুতে সূচক কিছুটা চাপের মুখে ৫ হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে নেমে গেলেও পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রত্যাশা ও অর্ধবার্ষিক লভ্যাংশের হিসাব মাথায় রেখে বিনিয়োগকারীদের একাংশের ক্রয়ে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে সার্ভিস অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট খাত ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টপ গেইনার হলেও বীমা খাত ২ দশমিক ৩১ শতাংশ দর হারিয়ে দিনের সবচেয়ে বাজে পারফর্মার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মার্জিন ঋণের নতুন মূল্য-থেকে-বইমূল্য (Price-to-Book Value) নীতির কারণে অনেক বীমা কোম্পানি মার্জিন সুবিধার বাইরে চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় মূলত এই পতন ঘটেছে।
বাজারের সার্বিক চিত্র অনুযায়ী, এদিন লেনদেন কিছুটা কমে ৯৬৬ কোটি টাকায় নেমেছে এবং ডিএসইতে ১৮২টি কোম্পানির শেয়ার দর হ্রাসের বিপরীতে ১৪৮টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে ও ৫৮টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বীমা খাতের ওপর লেনদেনের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। প্রগতি, কর্ণফুলী, তাকাফুল ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মতো বীমা কোম্পানিগুলো দরপতনের তালিকায় শীর্ষে ছিল, অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড ও টেক্সটাইল খাতের কিছু শেয়ার দাম বাড়ার সার্কিট ব্র্রেকার স্পর্শ করেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সিএসসিএক্স এবং সার্বিক মূল্যসূচক CASPI সামান্য পতনের মধ্য দিয়ে আজকের লেনদেন শেষ করেছে।