
পর্যাপ্ত পরিশোধিত মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং মূলধন সংকটের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চারটি শাখা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিইউএই) ইতিমধ্যে জনতা ব্যাংকের এসব শাখার হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহকের হিসাব খোলা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বিদ্যমান ব্যবসা ধাপে ধাপে গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএইর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৪০০ মিলিয়ন দিরহাম হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১০০ মিলিয়ন দিরহাম, যার ফলে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার বিশাল মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সিবিইউএইর সহকারী গভর্নর আহমেদ সাঈদ আল কামজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রুপ পর্যায়ে বড় ধরনের উদ্বেগ, মূলধন ঘাটতি এবং ব্যাংকিং বিধিমালার ন্যূনতম শর্ত লঙ্ঘনের কারণেই এই নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকে কেবল আমানতকারীদের দাবির বিপরীতে নির্দিষ্ট ও সীমিত পরিমাণ টাকা তোলার অনুমতি মিলবে। সব ধরনের অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন বন্ধ রেখে গ্রাহকের দাবি সংক্রান্ত প্রতিটি ডেবিট লেনদেনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সভা করে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল-আইনে শাখা পরিচালনা করে আসা জনতা ব্যাংক প্রধানত প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাণিজ্য অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক সংকটের প্রভাব ব্যাংকটির ওপরও গভীরভাবে পড়েছে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩,৯৩১ কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ। নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি পূরণ করার ক্ষমতা ব্যাংকের না থাকায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে।