
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের অব্যাহত আক্রমণাত্মক তৎপরতা প্রতিহত করতে দেশটিতে নতুন করে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে গত সোমবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানকালে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা, মিসাইল ও ড্রোন লঞ্চ প্যাড এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। মূলত আন্তর্জাতিক এই সামুদ্রিক করিডোরে মুক্তভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেহরানের সামরিক শক্তি খর্ব করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত মে মাস থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সাড়ে চারশ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড তেল নিরাপদে পারাপারে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই হোয়াইট হাউসে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এর আগে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা এবং দেশটির সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এছাড়া কূটনীতির পথ সংকুচিত হয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে নতুন করে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিকল্প বা 'প্ল্যান এ' নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।