
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে নিজেদের আন্দোলন অবিচল রাখার ঘোষণা দিয়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশি নির্মমতা ও সংঘর্ষের ঠিক একদিন পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংগঠনটি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। এর আগে গত সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী একত্রিত হয়ে সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও বেপরোয়া লাঠিচার্জ করায় উভয়পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন আহত হন, যার মধ্যে শতাধিক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লির রাজপথে এটি অন্যতম বড় ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করা সিজেপি অল্প সময়ের মধ্যেই লাখো তরুণের সমর্থন আদায় করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবারেও শত শত আন্দোলনকারী দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হলেও তাতে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়ন কেলেঙ্কারির মতো ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভই এই বিশাল জনবিক্ষোভের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।