
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রী নিজেই। বৈঠকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার (২০২১-২০৩০) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সড়ক যোগাযোগকে আরও নিরাপদ ও টেকসই করে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত এবং প্রযুক্তিনির্ভর নানা যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর অংশ হিসেবে মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনা পরবর্তীতে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পথচারীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিক বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নের বিষয়েও সরকার পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
সড়ক নিরাপত্তাকে একটি জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সকলের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত জরুরি। সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।