
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই ট্রফি নিশ্চিত করা বাংলাদেশ দল শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। রোমাঞ্চে ভরপুর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ১ উইকেটের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ শেষে এখন দুই দলই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে, যেখানে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে তারা।
এর আগে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ঐতিহাসিক সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভারগুলোতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে একটি সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক ২৭৪ রান। দলের পক্ষে তৌহিদ হৃদয় এবং মোসাদ্দেক হোসেনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ইনিংস দলকে এই লড়াকু পুঁজি গড়তে বড় ভূমিকা রাখে। ম্যাচ শেষে টাইগারদের সিরিজ জয়ের স্মারক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পুরো সিরিজে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিগত তিন ম্যাচে দল যেভাবে খেলেছে তাতে তিনি দারুণ গর্বিত, বিশেষ করে শেষ ওভারগুলোতে যেভাবে দল লড়াইয়ে ফিরেছে তা প্রশংসনীয়। তবে মিডল ওভারে স্পিনাররা পর্যাপ্ত উইকেট না পাওয়ায় কিছুটা খেসারত দিতে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ দিন পর দলে ফিরে শরিফুল ইসলামের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের প্রশংসা করে শান্ত জানান, শরিফুল প্রথম ম্যাচ না খেলেও যেভাবে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে তা দলের পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
অন্যদিকে ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে চরম বিপাকে পড়েছিল অসিরা। তবে তরুণ ওপেনার কুপার কনোলি একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের এক স্মরণীয় ও দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি উপহার দেন। তার এই অসাধারণ ইনিংসটিই মূলত অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের সুনির্দিষ্ট পথে টিকিয়ে রাখে। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা কুপার কনোলি জানান, দলের এই জয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং শেষ ওভারে জাম্পা ও রিলে দলের জয় নিশ্চিত করায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।
অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক জশ ইংলিশ ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান যে ড্রেসিংরুমে বসে খেলা দেখাটা অত্যন্ত স্নায়ুচাপের ছিল। তবে কনোলির অসাধারণ এবং শান্ত মেজাজের ব্যাটিং তাদের ম্যাচ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে পেসার শরিফুল ইসলাম নিজের অসাধারণ ও ধারালো স্পেলে একপর্যায়ে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন এবং অসি শিবিরকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুপার কনোলির অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং লেজসার্জারদের দৃঢ়তায় ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।