
যুদ্ধের প্রতিদিনের চরম কঠিন বাস্তবতা এবং অবর্ণনীয় মানবিক সংকটের মাঝেও ফুটবল উন্মাদনার কমতি ছিল না ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন ক্যাফে ও আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় জমিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জন করার পর গাজার এই জনপদে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
চলমান যুদ্ধ এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর শঙ্কার মধ্যেও এই মেগা ফাইনাল ম্যাচটি গাজার সাধারণ মানুষের জন্য এনে দিয়েছিল কয়েক ঘণ্টার দুর্লভ স্বস্তি ও মানসিক মুক্তির মুহূর্ত। বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করার সুবাদে তারা কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধের ভয়াবহ চাপ ও চারপাশের কঠিন পরিস্থিতি থেকে নিজেদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পেরেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে সমবেত হওয়া বেশিরভাগ দর্শকই ফাইনালে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি স্পেনের দৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থনের কারণেই তারা মন থেকে এই দলটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ম্যাচ চলাকালীন ফাইনাল দেখতে আসা গাজার এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা সবাই মিলে আজ স্পেনকে সমর্থন করার জন্য একত্রিত হয়েছি, কারণ দেশটি বহু বছর ধরে যেকোনো বিপদে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে অকৃত্রিমভাবে দাঁড়িয়ে আসছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, এই ক্রীড়া সমাবেশের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী ও বিপন্ন মানুষের প্রতি সমর্থন জানানো আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর প্রতি যেমন সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে, ঠিক তেমনি বিশ্ববাসীর কাছে এক জোরালো শান্তির বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গাজার বাসিন্দাদের স্পষ্ট ভাষ্য হলো, তারা এমন একটি শান্তিপ্রিয় জাতি, যারা ধ্বংসের পরিবর্তে কেবল শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রত্যাশা করে।
উল্লেখ্য, গত রোববার অনুষ্ঠিত অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মর্যাদাকরম বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি ঘরে তোলে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার সোনালী ট্রফি জিতেছিল স্প্যানিশরা। অন্যদিকে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী লা আলবিসেলেস্তেরা এবারের আসরে দারুণ লড়েও নিজেদের রানার্সআপ খেতাবের বেশি ধরে রাখতে পারেনি।