
যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য কোনো স্থল অভিযান পরিচালনা করলে তা মোকাবিলা করার জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুংকার দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের অত্যন্ত কৌশলগত ও তেলসমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো ধরনের দুঃসাহসিক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তরের এই মুখপাত্র এমন মন্তব্য করেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এমন মানুষ ও নীতিনির্ধারক রয়েছেন, যারা সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য এখন কেবল মিনিট গুনছেন এবং মার্কিন সেনাদের বরণ করে নিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।’ এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো অপচেষ্টা চালানো হলে তার চরম খেসারত যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সব দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে কি না সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল বাঘায়ি জানান যে, তেহরান যুদ্ধ এবং কূটনীতি উভয় মাধ্যমকেই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তার মতে, ‘আমি যুদ্ধ অথবা কূটনীতির এই দ্বৈত ধারণাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি। কূটনীতি যেমন আমাদের জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি স্বীকৃত মাধ্যম, ঠিক তেমনি যুদ্ধ বা শক্তির প্রয়োগও প্রয়োজনে আরেকটি মাধ্যম হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে हाल हीতে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে বাঘায়ি দাবি করেন যে, ওই চুক্তির প্রতিটি পাঠ্য ও ধারার বিষয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা ধোঁয়াশা নেই। এই চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এতে মোট ১৪টি সুনির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলে আসছি যে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ সার্বিক ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব একমাত্র ইরানের ওপরই ন্যস্ত। এ বিষয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ওমানের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সংলাপের মাধ্যমেই কেবল আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
চুক্তির ভাষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই চুক্তি লঙ্ঘন করার বা তা থেকে সরে যাওয়ার বিন্দুমাত্র কোনো আইনি বা নৈতিক অজুহাত নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনার মাঝেও বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নানা বার্তা তেহরানের হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানান ইরানি মুখপাত্র। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বার্তা পেয়েছি। যদিও এ মুহূর্তে সব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাই না, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও যোগাযোগ সচল রয়েছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী পক্ষ আমাদের কাছে নানামুখী প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিচ্ছে।’
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই প্রধানত দায়ী করেছেন ইসমাইল বাঘায়ি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, ইরানের আশপাশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তেহরানের বিন্দুমাত্র কোনো বৈরী মনোভাব নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে আহ্বান জানান, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই তাদের নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসী হামলা চালানোর সুযোগ কাউকে না দেয়।
বাঘায়ি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে আরও বলেন, ‘আমরা বারবার পরিষ্কার করে বলেছি যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি, ওই দেশগুলো তাদের নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালাতে দেবে না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শত্রুপ্রসূত হামলা অব্যাহত থাকবে, ততদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও এর উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে বদ্ধপরিকর থাকবে।’