
দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সাজেদা ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সহযোগিতায় এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে একটি বিশেষ চক্ষু ক্যাম্প পরিচালিত হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে সমাজের নানা প্রান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও অসহায় ১২৬ জন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়েছে।
গত শনিবার ১৮ জুলাই ঠোঁট কাটা ও তালু কাটা অপারেশন কর্মসূচিতে চিকিৎসা নিতে আসা অসচ্ছল অভিভাবক এবং হাসপাতালের অন্যান্য সাধারণ সেবা গ্রহণকারী রোগীদের এই বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই চক্ষু ক্যাম্পে মোট ১৫৮ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ১২৬ জন ব্যক্তির চোখে দৃষ্টি ত্রুটি বা প্রেসবায়োপিয়া শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চশমা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পরামর্শও প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
এই বিশেষ চক্ষু ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও যুগ্মসচিব জনাব মোঃ রুহুল আমিন। এছাড়া সাজেদা ফাউন্ডেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক তামান্না ফেরদৌস, আরজিআইএল প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. খাদিম আল দ্বীন, ফিল্ড অপারেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলামসহ প্রকল্পের অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক জনাব মোঃ আঃ রাজ্জাক সরকার এই উদ্যোগের উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, নিকট দৃষ্টি ত্রুটির মতো সমস্যার যে এত সহজে এবং সাধারণ উপায়ে সমাধান করা সম্ভব, তা অনেকেরই অজানা ছিল। তিনি এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সাজেদা ফাউন্ডেশনের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ভিশন স্প্রিংয়ের যৌথ কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘আরজিআইএল’ প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ৩০টি জেলায় অত্যন্ত সফলভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এর আগেও বহু মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জানান যে, এই চলমান কার্যক্রমের আওতায় দেশজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের ‘প্রেসবায়োপিয়া’ বা নিকট দৃষ্টির ত্রুটি সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মানসম্মত চশমা বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।