
ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বজুড়ে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র একা নয়, বরং অন্যান্য দেশগুলোকেও আরও জোরালো ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জুলাই) ফিলিপাইনের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। রুবিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানের একটি নির্দিষ্ট অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে এটিকে কাজে লাগাতে চাইছে। বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই বিশাল নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল ওয়াশিংটনের একাই নয়; বরং অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোকেও এর অংশীদার হতে হবে এবং আর্থিক সহায়তা কিংবা সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।
রুবিও বলেন, ‘বিশ্বের নৌ চলাচল রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যা যা প্রয়োজন তার সবই করবে। তবে অন্য দেশগুলোকেও তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে রুবিও জানান যে, তেহরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক উপায়ে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এখনো যথেষ্ট আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকেও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার এক ধরনের আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি ইরাকে ইরানের হামলায় এক মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে রুবিও স্পষ্ট করে জানান যে, এটি মূলত একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল। একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন থেকে যাওয়া অবিস্ফোরিত অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া চলাকালীন ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন যে, গত শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিল, যদিও এর বড় অংশই মাঝপথে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। বাণিজ্যিক জলযানগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কড়া জবাব দিতেই যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়ে ইরানে পালটা হামলা পরিচালনা করেছে বলে জানান এই মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা।