
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের সর্বশেষ অর্থবছরের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ইসির সচিবালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় দলটির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন। তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেন।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে দলটির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং এই সময়ে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে বর্তমানে দলটির তহবিলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। মূলত দলীয় সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকেই দলটির আয়ের প্রধান উৎস। অন্যদিকে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রচার-প্রকাশনা, কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুঃস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী, কোনো দল টানা তিন বছর এই হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপি তাদের এই আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করল।