
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাদের বিশ্বসেরা বলা হয়। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের পাশাপাশি তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে। তবে মাঠের সাফল্যের এই উজ্জ্বলতার আড়ালে এখন ফুটবলের অমোঘ এক পরিসংখ্যান নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা, যা দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলগুলোকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে একটি অদ্ভুত ও রহস্যময় প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন যে দলটি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকে, তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে ব্যর্থ হয়। ১৯৯৪ সালের জার্মানি থেকে শুরু করে ১৯৯৮ সালের ব্রাজিল, ২০০২ সালের ফ্রান্স, এমনকি ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও শীর্ষ র্যাঙ্কধারী ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। প্রতিটি আসরেই ফেভারিট হয়ে আসা শীর্ষ দলগুলো যেন কোনো এক অদৃশ্য অভিশাপে নিজেদের হারিয়ে ফেলে।
বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপ শুরুর সময় আর্জেন্টিনা শীর্ষে থাকলেও পরবর্তীতে ফ্রান্স সেই জায়গা দখল করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ফরাসিদের অপ্রত্যাশিত পরাজয় ও আর্জেন্টিনার ইংল্যান্ডবধ আবারও আলবিসেলেস্তেদের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমান পয়েন্ট তালিকায় ১৯৭০.৩৭ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা শীর্ষে থাকলেও ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে স্পেন। স্প্যানিশরা ফ্রান্সকে হারিয়ে ২৬.৯০ পয়েন্ট যোগ করার পর এখন ১৯৬৫.৬১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে লড়াই করার আগে আর্জেন্টিনার সামনে এখন দুই ধরনের ইতিহাস। একদিকে তাদের সামনে সুযোগ টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার, অন্যদিকে রয়েছে সেই পুরনো পরিসংখ্যানের শঙ্কা। তবে ফুটবল কেবল সংখ্যার খেলা নয়। স্কালোনির আর্জেন্টিনা গত কয়েক বছরে দেখিয়েছে যে, চাপের মুখে কীভাবে নিজেদের সেরাটা দিতে হয় এবং কীভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করতে হয়। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, ১৯ জুলাইয়ের সেই ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনা কি সেই দীর্ঘদিনের অভিশাপ ভেঙে সোনালি ট্রফি নিয়ে বুয়েনোস আইরেসে ফিরবে, নাকি ইতিহাস তার পুরোনো পথেই চলবে?