
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে (এজেকে) আরও বেশি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার দাদিয়ালে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় আসন্ন আইনসভা নির্বাচনের প্রচারণার সূচনা করতে গিয়ে তিনি এই বিশেষ প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিলাওয়াল জানান, তার দল নির্বাচিত হলে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানে সাংবিধানিক সম্মেলন আহ্বান করে অঞ্চলটির আইনগত সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো তার দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ‘শাসনের অধিকার, মালিকানার অধিকার এবং কর্মসংস্থানের অধিকার’ এই তিন মূলনীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, জাতীয় অর্থ কমিশন (এনএফসি) এবং অভিন্ন স্বার্থ পরিষদের (সিসিআই) মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আজাদ কাশ্মীরের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আজাদ কাশ্মীরের জন্য পৃথক একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাব দেন, যিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাশ্মীরি জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবেন এবং ইসলামাবাদ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবেন।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিলাওয়াল একটি ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) আন্দোলনের দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার জন্য এই কমিশন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে উগ্রপন্থি ও অরাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ঝুঁকি বাড়বে।
আসন্ন নির্বাচনকে আজাদ কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে বিলাওয়াল ভোটারদের পিপিপির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তার ভাষ্যমতে, জুলফিকার আলী ভুট্টো ও বেনজির ভুট্টোর আদর্শ অনুযায়ী পিপিপি সর্বদা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে। নির্বাচনের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই তার দলের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।