
ফুটবল বিশ্বের দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা একজন লিওনেল মেসি, অন্যজন লামিন ইয়ামাল। বয়সের ব্যবধান ২০ বছরের, কিন্তু মাঠে তাদের লড়াইটা এখন সমানে সমান। আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে যখন আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন মুখোমুখি হবে, তখন পুরো বিশ্বের নজর থাকবে এই দুই জাদুকরের ওপর। ফাইনালের আগে ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন মেসি, তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শিরোপার লড়াইয়ে তিনি স্প্যানিশ এই বিস্ময়বালককে কোনো ছাড় দেবেন না।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কে ফিফার ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’-এ অংশ নিয়ে মেসি তরুণ ইয়ামালের বর্তমান ফর্ম ও অমিত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মেসি বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়দের তালিকায় ইয়ামাল একাই সেরা। বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গারের সাফল্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কামনা করেন, কারণ ইয়ামালের সাফল্য মানেই বার্সেলোনার সাফল্য। তবে মাঠের লড়াই ভিন্ন কথা বলে। মেসি বলেন, ইয়ামাল নিঃসন্দেহে একজন বৈশ্বিক তারকা, কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে তিনি এবং তার দল এমন এক কৌশল নিয়ে মাঠে নামবেন যাতে ইয়ামাল নিজের সেরাটা প্রদর্শন করতে না পারেন।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, স্পেন দল হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। শুধু ইয়ামাল নয়, পুরো স্প্যানিশ দলকে সামলানোর জন্যই আর্জেন্টিনা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি ও অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত। মেসি নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে অবিচল, অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল চাইছেন নিজের প্রথম বৈশ্বিক শিরোপার স্বাদ নিতে।
মেসির ভাষ্যমতে, ইয়ামালের সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং তিনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী। তবে রোববার রাতে যখন বল মাঠে গড়াবে, তখন বন্ধুত্বের চেয়ে নিজের দেশের জয়ের লক্ষ্যই যে মুখ্য থাকবে, সেটিই ফুটে উঠেছে মেসির কথায়। তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ব যাতে ইয়ামাল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে।’ দুই প্রজন্মের এই লড়াইয়ের উত্তাপ এখন আকাশচুম্বী, আর ফুটবলপ্রেমীরা অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কে হাসবেন শেষ হাসি মেসির অভিজ্ঞতা নাকি ইয়ামালের তারুণ্য?