
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তাবিত আচরণ বিধিমালায় এই নতুন বিধান যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই তারা এই প্রস্তাব দিয়েছেন।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান কমিশন ইতিমধ্যে একই ধরনের বিধান যুক্ত করেছিল, যার ফলে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আচরণ বিধিমালায় এ ধরনের কঠোর বিধান যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শুধু নিষিদ্ধ দলের প্রার্থিতা বাতিলের প্রস্তাবই নয়, বরং নির্বাচনি প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার রোধে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিও জানানো হয়েছে। তারা প্রস্তাব দিয়েছে, নির্বাচনের সময় যাতে কোনো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য তাদের নিজ এলাকায় অবস্থান করতে না পারেন, সে বিষয়টি আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনি প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে দলটি।
এদিকে জামায়াত ছাড়াও বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ)-এর মতো সংস্থা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে স্নাতক এবং কাউন্সিলর পদে এসএসসি পাস করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া ঋণখেলাপি, দুর্নীতিবাজ ও টাকা পাচারকারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও উঠে এসেছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া নির্বাচনি প্রচারণায় এনজিওগুলোর ভূমিকা বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার, ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহের মতো অনৈতিক প্রবণতা রোধে কঠোর বিধান যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, টিআইবি নির্বাচনি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমের অপব্যবহার রোধ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে পাওয়া এই সুপারিশগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। কমিশনের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন আচরণ বিধিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। অক্টোবরে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে কমিশন এই বিধিমালার চূড়ান্ত রূপ দিতে কাজ করছে।