
রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই লাগামহীন হয়ে উঠেছে ডিমের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মাছের বাজার চড়া থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের মাঝে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা (বাজারভেদে ১৮৫ টাকা) এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে যে ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছিল, তা চলতি সপ্তাহে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল বা ব্রাউন কালারের ডিম ১৩৫ টাকা এবং সাদা ব্রয়লার ডিম ১২৫ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে গিয়েও ক্রেতাদের পকেট কাটছে চড়া দাম। বাজারে মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০, ট্যাংরা ও বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে; ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে তুলনামূলক কম আয়ের ক্রেতাদের জন্য চাষের কই (৪০০-৫০০ টাকা), তেলাপিয়া (২২০-২৩০ টাকা) এবং পাঙাশ মাছ (২০০-২২০ টাকা) কিছুটা স্বস্তি দিলেও ২০০ টাকার নিচে কোনো ভালো মাছ না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।