
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করতে চায় প্যারিস। রাষ্ট্রদূতের মতে, সাম্প্রতিক শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বিশেষভাবে আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রাষ্ট্রদূত জানান, তাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। দুই দেশের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশে প্রায় ২০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে, যার সিংহভাগই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যয় হয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ফ্রান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন এবং সমুদ্র সংরক্ষণের মতো নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিবেশবান্ধব ক্ষেত্রেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব জোরদার হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় ফ্রান্স যে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধু হিসেবে পাশে থাকতে চায়, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।