
জাতীয় সংসদে এইচএসসি পরীক্ষা না পেছানোর কারণ এবং প্রশ্নপত্রের ভুলের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। সংসদে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে পরীক্ষা কেন কয়েক দিনের জন্য পেছানো হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে পরীক্ষা পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষা নেওয়ার উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দেওয়া রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বড় কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে তারা চাইলে পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে পারেন। মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের যথেষ্ট সহানুভূতি রয়েছে এবং মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি সবসময় নিবিড়ভাবে তদারকি করেছে।
সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা আয়োজনের জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় মোট ২,৭০০টি কেন্দ্রে একই সময়ে পরীক্ষা শুরু করতে হয়। এর আগে চট্টগ্রামে যখন বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রথমে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং পরবর্তীতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আবহাওয়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। তবে পরদিন সকালে কুমিল্লার একটি কলেজ মাঠ আকস্মিকভাবে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে এক পরীক্ষার্থীর কাপড় ভিজে যাওয়ার কারণে তাকে শুকনো কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তার পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিয়ে বড় কোনো দুর্যোগের খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস হয়েছে এবং এই প্রশ্নগুলো তাদের সময়ে তৈরি করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি করা প্রশ্ন দিয়েই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবুও শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ভুল থাকা প্রশ্ন দুটির জন্য পরীক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দিয়ে দেওয়া হবে।