
চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সফরে এসে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে রাতযাপন করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি। রোববার (১২ জুলাই) বাঁশখালীতে ত্রাণ কার্যক্রম শেষে তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে বাঁশখালীর বৈলছড়িতে অবস্থিত ‘মিয়াবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এর আগে এনসিপিসহ সমমনা দলগুলো আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছিল। ফলে বিরোধী দলটির নেতার বাসস্থানে সরকারি দলের সাথে যুক্ত নেতার রাতযাপনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এই বিতর্কের বিপরীতে এনসিপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, তারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ জানান, মাহমুদুলের আমেরিকা প্রবাসী ভাই রায়হানুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে তাদের নেতাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুসম্পর্ক রয়েছে। রায়হানুল ইসলাম পরিবেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত। মূলত তারই আমন্ত্রণে বা তারই বাড়ির বাসিন্দা হিসেবে তারা সেখানে উঠেছিলেন। বাড়ির মালিকানায় যে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর নাম জড়িয়ে আছে, তা তারা আগে থেকে জানতেন না।
মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী নিজেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়িটি যৌথ পরিবারের সবার। তার নিউয়র্ক প্রবাসী ভাইয়ের সাথে এনসিপি নেতাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল। মূলত ভাইয়ের সাথে কথা বলেই তারা বাড়িতে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমানে নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর এই অবস্থানকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।