
নেপালের রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মাত্র ১০০ দিনের মাথায় তরুণ প্রজন্মের (জেন জি) তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়েছেন। গত বছর তরুণদের আন্দোলনের জোয়ারে ক্ষমতায় আসা এই নেতার জনপ্রিয়তা এখন বড় ধরনের সংকটে। রোববার (১২ জুলাই) কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের বাইরে শত শত তরুণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি গরিবদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, মানবাধিকার রক্ষা এবং অবিলম্বে উচ্ছেদকৃত ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বালেন শাহের প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষের মূল কারণ কাঠমান্ডুর নদী তীরবর্তী এলাকায় কঠোর উচ্ছেদ অভিযান। নিয়ম অনুযায়ী ভূমিহীনদের পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ চালানোয় প্রায় আড়াই হাজার পরিবার গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। নাগরিক অধিকারকর্মীদের দাবি, এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে ‘পাঠাও’ চালক গণেশ নেপালির মর্মান্তিক আত্মাহুতির ঘটনায়। পার্কিং জরিমানা ও মিউনিসিপ্যাল পুলিশের সাথে বিরোধের জেরে নিজের গায়ে আগুন দেওয়া ওই যুবকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে।
নির্বাচনের আগে সুশাসন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ১০০ দফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, ১০০ দিন পর দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে একনায়কতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় না যাওয়া এবং সংসদকে এড়িয়ে চলার বিষয়টি তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
একসময় যে তরুণ প্রজন্ম বালেন শাহকে নেপালের নতুন আশার প্রতীক হিসেবে দেখেছিল, আজ তারাই তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার দ্রুত এই ক্ষোভ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ না করে, তবে নেপালের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে যারা পরিবর্তন চেয়েছিলেন, তারাই এখন বালেন শাহের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন।