
টানা এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না। অধিকাংশ এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে গন্ডামারা, বাহারছড়া ও সরল ইউনিয়নের মতো অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এলাকাগুলোতে ত্রাণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার পানি কমলেও কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক এলাকা এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কাথারিয়া ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ত্রাণবাহী গাড়িগুলো মূলত প্রধান সড়ককেন্দ্রিক চলাচল করছে, ফলে দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারি-বেসরকারি সহায়তার নাগাল পাচ্ছে না। বিশেষ করে পশ্চিম গন্ডামারা এলাকায় লবণ চাষসহ কৃষিখাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলো এখনও কোনো কার্যকর সহায়তার মুখ দেখেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ১০০ টন চাল ও ৫ হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে নেমেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বন্যার পানি নামার সাথে সাথে এখন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন দুর্গম এলাকার শেষ প্রান্তে থাকা অসহায় পরিবারগুলোর কাছে কতটা দ্রুত পৌঁছাতে পারে।