
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী এখন মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার অপেক্ষায়। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তিতে পল্লীর অন্তত ২৪টি পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যেই টিলা ধসে বেশ কিছু বসতঘর পাহাড়ি ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে এবং গত দুই বছর ধরে চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন থাকায় বাসিন্দারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষায় ভাঙন তাদের সহায়-সম্বল কেড়ে নিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
পল্লীবাসীর করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা জানান, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হওয়ার পর এবার পুরো গ্রামই বিলীন হওয়ার উপক্রম। ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা আক্ষেপ করে বলেন, বারবার প্রশাসনের কাছে ধরনা দিলেও ভাঙনরোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, পাঁচটি পরিবার এরই মধ্যে গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কার না করলে এই আদিবাসী পল্লীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।
সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের মতে, এলাকাটি বাঁচাতে একটি শক্তিশালী গাইডওয়াল নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। এবারের ভূমিধসে বন ও লোকালয়ের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, ভাঙন রোধে বড় ধরনের বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত লিখিত আবেদন জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরিয়ে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থাও করার কথা জানিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন একটাই প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কি এই ২৪টি পরিবারের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারবে? নাকি বর্ষার তীব্রতায় সবটুকু হারিয়ে যাবে পাহাড়ি ঢলের গহ্বরে?