
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরাতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে তোড়জোড় চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ঝরে গেল ছয়টি তাজা প্রাণ। রোববার (১২ জুলাই) সংঘটিত এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নয় বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পাশে একটি তাঁবু এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে শিশু তালা আবু মাতার প্রাণ হারায়। যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার ব্যাপারে কোনো তথ্য পায়নি বলে দায় এড়িয়ে গেছে।
একই দিনে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি ধাতব কারখানাকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় আরও চারজন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে পর পর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে কারখানাটি ধসে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য তারা উপস্থাপন করেনি। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবু শিবিরে আরও একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধবিরতির দাবি সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। গাজার শাসনে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে হামাসের প্রতিনিধিদল বর্তমানে কায়রো সফরে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। একদিকে আলোচনার টেবিলে শান্তির প্রত্যাশা, আর অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে ক্রমাগত রক্তপাত এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মাঝে সাধারণ গাজাবাসীর জীবন আজ এক চরম অনিশ্চয়তার গোলকধাঁধায় বন্দি।