
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন রূপ নিয়েছে। রোববারের (১২ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুটি শক্তিশালী ‘হিমার্স’ (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই একটি গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই লঞ্চারগুলো ইরান অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ড্রোন অপারেশনের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়। যদিও বিবৃতিতে কতগুলো লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ইরান দাবি করেছে যে, এই অভিযানে অন্তত ৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম’ বা হিমার্স হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অত্যন্ত নিখুঁত ও বহুমুখী রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা, যা ট্রাক-মাউন্টেড হওয়ায় খুব দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম। ইরানের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনবহর ধ্বংসের দাবি করার পর কুয়েতে এই হামলার ঘটনা অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি সামরিক কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।