
কুমিল্লায় মাত্র তিন ঘণ্টার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে পুরো নগরী এখন জলমগ্ন। সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এই আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কোনো কোনো কেন্দ্রে নৌকা ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
নগরীর মনোহরপুর, রেসকোর্স, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন্স ও দক্ষিণ চর্থা এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রেন উপচে ময়লাযুক্ত পানি ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে। এমনকি কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও রোগীর শয্যার নিচেও পানি জমে গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত দশ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তারা আগে দেখেননি। জলাবদ্ধতার এই সুযোগে রিকশা ও অটোরিকশাচালকরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ জানিয়েছেন, যে সব পরীক্ষার্থী পানির কারণে বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছেছে, তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখার জন্য কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবল এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে গিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন, তা সাধারণ নগরবাসীর জন্য এক দুঃসহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।