
স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। সর্বশেষ রোববার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৩ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নারীর মৃত্যুতে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ওই নারী শরীরের প্রায় ২০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দাবানলে এখন পর্যন্ত লস গাইয়ারদোস পৌর এলাকার ৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ভস্মীভূত হয়েছে।
দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক ফরেনসিক সংস্থার যৌথ অনুসন্ধানে আরও দুজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে, যার ফলে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। বেলজিয়াম সরকার জানিয়েছে, নিহতদের তালিকায় তাদের দেশের নাগরিকদের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, কারণ তাদের দাবি আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগে কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। যদিও আন্দালুসিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় মেয়রের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
ইতিবাচক খবর হলো, রোববার দুপুরের দিকে আন্দালুসিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ানমা মোরেনো জানিয়েছেন যে, দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় লস গাইয়ারদোসের উত্তরের গ্রামগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রায় এক হাজার বাসিন্দাকে নিজ নিজ বাড়িঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ফরেনসিক সংস্থাগুলো। নিহতদের পরিবার ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এলেও উদ্ধার কাজ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।