প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে: নতুন করে সামরিক সংঘাত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও এক ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। গত সপ্তাহের শেষভাগে একটি বাণিজ্যিক কন্টেইনার জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক লড়াই শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি গত মাসে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত অকার্যকর করে তুলেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে তারা ইরানের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল বজায় রয়েছে এবং ইরানের অবরোধের দাবি ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, তেহরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। ইরানের দাবি, অনুমোদিত রুট অনুসরণ না করায় তারা একটি জাহাজে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো যেমন কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের এই আগ্রাসী ভূমিকার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং প্রায় ছয় হাজার নাবিক এই অঞ্চলে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে
বর্তমান এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে আলোচনায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই নতুন সংঘাত এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক আক্রমণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের "ফ্রিডম অফ নেভিগেশন" বা অবাধ চলাচলের নীতি এবং অন্যদিকে ইরানের প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এই দুই মেরুর অবস্থানেই মূলত বর্তমান উত্তেজনার মূল কারণ। উভয় দেশের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬