
চট্টগ্রামে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত রোববার সকাল থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে পুরো জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী আরও দুই থেকে তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এই ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের প্রধান সড়কসহ অলিগলি আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
নগরীর পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও আগ্রাবাদ দাইয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও গত কয়েকদিন পানি কিছুটা নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে ছিল, কিন্তু রোববারের নতুন বৃষ্টিতে মানুষ আবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস একে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর আগে গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা টানা কয়েকদিন পানির নিচে ছিল, যা ঐতিহাসিকভাবে বিরল।
নগরীর পাশাপাশি জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, হাটহাজারী ও আনোয়ারা উপজেলার অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে। জোয়ারের সময় পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু ভবন কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। নৌকা বা ভেলাই এখন অনেকের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরের প্রধান সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ত্রাণ পৌঁছালেও দুর্গম গ্রামগুলোতে সাহায্য পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অর্ধাহারে-অনাহারে নির্ঘুম রাত কাটছে হাজারো মানুষের। আকাশ পরিষ্কার হওয়ার আশায় দিন গুণছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার না করলে এই মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।