
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত জেলাটির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ টানা চতুর্থ দিনের মতো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একইসঙ্গে জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পাহাড়ধস এবং বন্যার পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পুরো জেলাটি যেন বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিরতিহীন এই বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জেলা শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাজারে মাছ, মাংস ও শাকসবজির মতো জরুরি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চললেও সেখানে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে মাইকিং করে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রুমা ও থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে বিকালের দিকে বন্যার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে এবং একটি জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন যে, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রকৃতি যেন এখনো দুর্যোগের হাত থেকে বান্দরবানকে মুক্তি দিচ্ছে না। দুর্গত মানুষদের জন্য এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বান্দরবানের এই বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়নে ও দুর্গত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত সহযোগিতা কি যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন?