
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার (১১ জুলাই) রাতভর রাশিয়ার চালানো ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গাইডেড বোমার ব্যাপক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিয়মিত হামলা চালিয়ে গেলেও এবারের আক্রমণটি ছিল বেশ জোরালো ও সুপরিকল্পিত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়া ১২০টিরও বেশি ড্রোন এবং অন্তত ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল অতি দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
রাজধানী কিয়েভে ভোররাতের পরপরই দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই সারা শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কিয়েভের মেয়রের ভাষ্যমতে, এই হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক অফিস এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসস্তূপের ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সতর্কতা জারির আগেই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলের সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমার আঘাতে একটি শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে একজন এবং দক্ষিণের ওডেসা বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অতি দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। যুদ্ধের এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত ও মুহুর্মুহু হামলা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জনজীবন ও অবকাঠামোকে ক্রমাগত বিপর্যস্ত করে তুলছে। প্রতিটি হামলার পর ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত অবস্থানের ঘোষণা আসলেও, সাধারণ জনগণের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
যুদ্ধের এই ক্রমাগত সংঘাত ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর বারবার হামলার ঘটনা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?