
এক সময় উন্নত ক্যারিয়ার ও গবেষণার সুযোগের খোঁজে মেধার বড় একটি অংশ পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিলের সংকট, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে চীনা গবেষকদের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০ জন বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ছেড়ে নিজ দেশ চীনে ফিরে গিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
১. ঝাং কাই (ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়): অতি-বৃহৎ সেলুলার স্ট্রাকচার ডাটা ব্যাংক তৈরির স্বপ্ন পূরণে তিনি ইয়েলের মায়া ত্যাগ করে গবেষণার জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন। ২. চেন পেইপেই (কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়): গবেষণার সংকুচিত তহবিল ও অস্থিরতার কারণে তিনি কেমব্রিজের পরিবর্তে হংকংয়ে নিজের ল্যাব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩. ওমর ইয়াঘি (নোবেলজয়ী): রসায়নে নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী এআই চালিত নতুন গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিতে এখন চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ৪. দাই লিয়াং (কৃষ্ণগহ্বর গবেষক): উত্তর আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ ছেড়ে এই পদার্থবিদ এখন সাংহাইতে নিজের গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করছেন। ৫. জিয়াং জিয়ানফেং (এমআইটি): সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় মাত্র ১৮ মাসে ডক্টরাল সুপারভাইজার হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করে তিনি যোগ দিয়েছেন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৬. চিহ-ইং সু (নিউরোবায়োলজিস্ট): ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চেয়ারের পদ ছেড়ে তিনি শেনজেন একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসে যোগ দিয়েছেন। ৭. লিং হাইবিন (এআই বিজ্ঞানী): উদ্ভিদ শনাক্তকরণ অ্যাপের উদ্ভাবক এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এখন হাংচৌয়ের ওয়েস্টলেক ইউনিভার্সিটির পূর্ণকালীন অধ্যাপক। ৮. লিয়াং জি (কম্পিউটার ভিশন): মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি বিপ্লবের অংশীদার এই খ্যাতিমান বিজ্ঞানী উত্তর আমেরিকা ছেড়ে এখন চীনের প্রযুক্তিখাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৯. মেমোরি চিপ বিশেষজ্ঞ: দুই দশকেরও বেশি সময় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পর তিনি যোগ দিয়েছেন চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় কন্ডাক্টিভ ম্যাটেরিয়ালস কোম্পানিতে। ১০. ঝু জিকিয়াং (ইভি মোটর বিশেষজ্ঞ): ব্রিটেনে দীর্ঘ ৩৮ বছর কাটানোর পর তিনি এখন হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করছেন।
বিজ্ঞানীদের এই প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মানচিত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গবেষকদের অভিযোগ, পশ্চিমা দেশগুলোতে চীনা শিক্ষাবিদদের বড় প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বিপরীতে, চীন তাদের আকর্ষণীয় তহবিল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে বিশ্বমানের প্রতিভাদের নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে। এই মেধা বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের স্থানান্তর ভবিষ্যতে প্রযুক্তির লড়াইয়ে চীনকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।