
বিশ্বকাপে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের গড়ে তোলা অভেদ্য প্রাচীর অবশেষে ভেঙে গেল। টানা ৬৫০ মিনিট গোল না খেয়ে টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম ক্লিন শিটের অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলিয়ারের দুর্দান্ত এক হেডে সিমনের সেই রেকর্ডে ছেদ পড়ে। এর ফলে বিশ্বকাপের চলতি আসরে প্রথমবারের মতো স্পেনের জালে বল প্রবেশ করল।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সিমন যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন, তা ছিল বিশ্ব ফুটবলের জন্য এক বিস্ময়। বিশেষ করে ১৯৯০ সালে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৭ মিনিটের ক্লিন শিটের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তিনি। কাতারে মরক্কোর বিপক্ষে সেই গোলশূন্য ড্র ম্যাচ থেকে শুরু করে এবারের আসরে কেপ ভার্দে ও অস্ট্রিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিমনের প্রতিরোধ ছিল দেখার মতো।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল হজম করলেও স্পেনের জয়ের পথ আটকায়নি। পাউ কুবারসিকে ফাঁকি দিয়ে বেলজিয়াম গোল করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জিতে স্পেন সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়বে লা রোহারা। যদিও রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটেছে, তবে সিমনের এই অসামান্য পারফরম্যান্স স্পেনের বিশ্বকাপ যাত্রায় এক নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সী সিমনের এই ক্লিন শিট যাত্রা ছিল আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের দক্ষতার অন্যতম সেরা নিদর্শন। ১৯৯০ সালে ঘরের মাঠে জেঙ্গার সেই রেকর্ড ভাঙার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতায়। বেলজিয়ামের কাছে গোল খেলেও সিমনের এই অবিস্মরণীয় ৬৫০ মিনিট ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অনেকদিন জায়গা করে রাখবে। এখন ফ্রান্সের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবল ভক্তরা।