
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আরও সক্রিয় করে তুলতে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের প্রতিটি সরকারি ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার অব্যবহৃত জমিকে খেলার মাঠে রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় দেশের সকল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও এবতেদায়ী প্রধানদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৭ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই নির্দেশনাটি প্রদান করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো, খেলার মাঠের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নির্দেশনা অনুযায়ী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে যদি কোনো জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নকশা অনুসরণ করে তা খেলার মাঠে পরিণত করতে হবে। এছাড়া, যেসব মাদ্রাসায় মাঠের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই জমির পরিমাণ ও সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র মাঠ নির্মাণই নয়, বিদ্যমান মাঠগুলো সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে মাঠগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ও তাদের প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে নিয়মিতভাবে মাদ্রাসা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের সমান সুযোগ পাবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের এই পুরো কার্যক্রমটি তদারকি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। তারা মনে করছেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও দলগত মানসিকতা গঠনে সহায়ক হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বহুমুখী করার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।