
শেয়ার বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক প্রযুক্তি শেয়ারগুলোর যে বিস্ময়কর উত্থান চলছিল, তাতে এখন ভাটা পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জেফারিসের গ্লোবাল হেড অফ ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি ক্রিস্টোফার উড তার সাম্প্রতিক ‘GREED & Fear’ নিউজলেটারে জানিয়েছেন যে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন ‘এআই ফ্যাটিগ’ বা প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ক্লান্তি ভর করছে। তার মতে, বাজার এখন দামি মোমেন্টাম শেয়ার থেকে সরে এসে এশিয়ার সাশ্রয়ী ও ভ্যালু-ভিত্তিক শেয়ারগুলোর দিকে ঝুঁকছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জেফারিস ভারতের শেয়ার বাজারের প্রতি তাদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। ক্রিস্টোফার উড জানিয়েছেন, যেসব বাজার এআই-ভিত্তিক র্যালিতে অংশ নেয়নি, এখন সেগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক বেশি আকর্ষণীয়। যদিও তিনি দীর্ঘমেয়াদী এআই বিনিয়োগ চক্রের বিষয়ে ইতিবাচক, তবে তার পরামর্শ হলো—প্রযুক্তি দানবদের চেয়ে তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অর্থাৎ, যারা এআই প্রযুক্তি তৈরির জন্য বিলিয়ন ডলার খরচ করছে তাদের চেয়ে বরং যারা এই প্রযুক্তির ‘পিঁকস অ্যান্ড শাভেল’ বা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে, তারাই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে।
জেফারিসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে শীর্ষ চারটি মার্কিন হাইপারস্কেলার এ বছর প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয় (capex) করতে যাচ্ছে, যা আগামী বছর ৮০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৭ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে এআই-সম্পর্কিত মোট ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মার্কিন জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমান। তবে এত বিশাল বিনিয়োগ থেকে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এ কারণেই অনেকে মুনাফা ঘরে তুলে কম মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন।
এই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ভারত এখন জেফারিসের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে এমএসসিআই এসি এশিয়া প্যাসিফিক ইনডেক্সে ভারতের প্রস্তাবিত ওজন ১০.৯ শতাংশের বিপরীতে জেফারিস এটিকে ১২ শতাংশ বা ওভারওয়েট হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ার বাজারের বরাদ্দ কমিয়ে ভারত ও চীনের দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে এমএসসিআই চায়নার শেয়ারের মূল্য বর্তমানে বেশ আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে উড মনে করছেন।
ক্রিস্টোফার উডের মতে, ডট-কম বুদবুদের সময়ের মতোই বর্তমানে এআই খাতের বিনিয়োগ অনেক উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় শিক্ষা হলো, গুজবে ভর করে নয় বরং প্রকৃত অবকাঠামো ও হার্ডওয়্যার নির্মাতা কোম্পানিগুলোই হবে এই প্রতিযোগিতার আসল বিজয়ী। ভারতের বাজারে এই নতুন বিনিয়োগের প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে দেশটিকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।