
বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হৃদয়বিদারক এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ। পেনাল্টি শুটআউটে হেরে শেষ ষোলো থেকে কলম্বিয়া বিদায় নেওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার কারণেই তিনি এই রোষানলের শিকার হয়েছেন। যদিও শুটআউটে তিনি সফলভাবে গোল করেছিলেন, তবুও দলের পরাজয়ের সব দায়ভার তার ওপর চাপিয়ে অসংবেদনশীল আচরণ প্রদর্শন করছেন কিছু সমর্থক।
এই ঘৃণ্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক কড়া বিবৃতি দিয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলার মাঠের ফলাফল যাই হোক না কেন, কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের ওপর এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। ফুটবল যেখানে ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হওয়ার কথা, সেখানে এমন সহিংসতা ফুটবল ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। ফেডারেশন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যাতে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা যায়।
নিজেও এই পরিস্থিতিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাজ। ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভক্তদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ফুটবলের আবেগ যেন কোনোভাবেই ঘৃণায় পরিণত না হয়। তিনি লিখেছেন যে, ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই এবং কঠিন সময় পার করাও খেলার অংশ, কিন্তু তা কোনোভাবেই কাউকে ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে বাধ্য করার অজুহাত হতে পারে না। তার এই আকুতি ফুটবল প্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৪ সালের সেই কালো অধ্যায়ের কথা, যখন আত্মঘাতী গোল করার দায়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল কলম্বিয়ার আন্দ্রেস এসকোবারকে।
এমন ঘটনা ফুটবল বিশ্বে আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকরা যদি মাঠের হতাশা থেকে বাস্তব জীবনে সহিংসতা শুরু করেন, তবে তা খেলার পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। কলম্বিয়ার ফুটবল অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক মহল এখন ক্যাম্পাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফুটবল যেন কেবল মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সমর্থকদের মধ্যে নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে, সেই দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কলম্বিয়া এই সংকট কাটিয়ে উঠবে এবং ক্যাম্পাজ পুনরায় মাঠে তার স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাবেন।