
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা এখন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরার সঙ্গে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে দ্বীপের বাসিন্দারা যেমন জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা বা ভোলা সদরে যেতে পারছেন না, তেমনি বাইরের যোগাযোগও সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।
নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে মনপুরার পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবারে চুলায় হাড়িই ওঠেনি, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষরা পড়েছেন চরম খাদ্য সংকটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন দেখা না মিললেও, কিছু সমাজকর্মী ও সংবাদকর্মীর প্রচেষ্টায় বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকবে।
উপকূলীয় এই দ্বীপে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধহীন চর কলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চল ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচরসহ বিভিন্ন গ্রামের চিত্র এখন একই রকম; বসতবাড়ির ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত মনপুরার বাসিন্দাদের এই প্রতিকূল পরিবেশেই টিকে থাকতে হবে। প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় দ্বীপবাসী।