
টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়লে নদীর পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এই আকস্মিক ভাঙনের ফলে মখাবিল, শ্রীপুর, ভান্ডারীগাঁও ও বনগাঁওসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। এছাড়া কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বাঁধ ধসে পড়ার পর মুহূর্তের মধ্যে পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে, ফলে অনেকের পক্ষেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। বর্তমানে নিচু এলাকার বসতবাড়ি ও আঙিনায় পানি উঠে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা নিম্নাঞ্চলের মানুষের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আলীনগর ও মাধবপুর এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানিয়েছেন, মখাবিল এলাকায় বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি আগে থেকেই সংস্কারের তালিকায় ছিল। তবে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় বিএসএফ-এর আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল ছিল। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে এলাকাবাসী চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কারণ নদীর পানি না কমলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।