
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকালে সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা এইচএসসি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল, আর বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এটিকে ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চায়।
শুধু শিক্ষাব্যবস্থা অবৈতনিক করাই নয়, বরং নারী শিক্ষার প্রসারে মেধার মূল্যায়নকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যারা স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফল করবে, সরকার তাদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করবে। নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নকে শক্তিশালী করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য চালু করা ফ্যামিলি কার্ড অন্যতম। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলো নারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুকে পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ প্রদান করা হবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষাবান্ধব এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।