
দীর্ঘ এক মাসের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ওপেনএআই-এর পরবর্তী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এর মুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। মূলত এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবেই এই মডেলটি এতদিন সীমিত পরিসরে ছিল।
ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৫.৬ কোনো একক মডেল নয়, বরং এটি তিনটি ভিন্ন স্তরের একটি পরিবারের সমন্বিত রূপ। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণটি হলো ‘সোল’ (Sol), যা জটিল গবেষণা, কোডিং এবং মাল্টি-স্টেপ সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ সংস্করণ হিসেবে থাকছে ‘টেরা’ (Terra) এবং দ্রুতগতির সাশ্রয়ী সংস্করণ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ‘লুনা’ (Luna)। এই মডেলগুলোতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Seafeguards) যুক্ত করা হয়েছে, যা ক্ষতিকর অনুরোধ শনাক্ত করতে এবং সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই অন্যান্যরাও। ওপেনএআই-এর এই ঘোষণার পরপরই ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, তাদের নতুন এআই মডেল ‘গ্রোক ৪.৫’ (Grok 4.5)-ও খুব দ্রুত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে গত মাসে অ্যানথ্রপিক তাদের ‘মিথোস ৫’ এবং ‘ফেবল ৫’ মডেলগুলো একই ধরণের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলেও, বর্তমানে তা পুনরায় ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তির এই বৈশ্বিক দৌড়ে একদিকে যেমন উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানোই এখন প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।