
টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ ও হালিশহরসহ অধিকাংশ নিচু এলাকা এখন পানির নিচে। অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় পণ্য। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় রান্নাবান্না ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগের শিকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে তারা কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জলাবদ্ধতার পাশাপাশি অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। মুরাদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে, যার ফলে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক ও যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিমান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড পরিস্থিতি বিবেচনা করে বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও কয়েক দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে, তবে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির প্রভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন অত্যন্ত ধীরগতির হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।