
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনার মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশমালা নিয়ে অংশীজনদের সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, প্রাপ্ত সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সামনের নির্বাচনগুলোতে সংস্কার অগ্রাধিকার ও তার বাস্তবায়নে ইসি সচেষ্ট থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে পর্যবেক্ষক দল ও অংশীজনদের কাছ থেকে যে মতামত ও পরামর্শ পাওয়া গেছে, কমিশন তা গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করছে। এই সংলাপের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং এই সংলাপে প্রাপ্ত নতুন সুপারিশগুলোও ভবিষ্যতের কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে আগামীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের (আইএফইএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও অংশ নেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে আরও নতুন সুপারিশ আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং কমিশনকে এই সুপারিশগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক পর্যবেক্ষক সংস্থা তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত দুদিনের এই সংলাপে স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি এবং নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। এতে ইসির অন্যান্য কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন এখন অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান সংস্কারের একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরির কাজ করছে।